মাধ্যমিক

জাতীয়করণসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পাঁচ দাবি

শিক্ষা নিউজ : শিক্ষাকে এমপিওভুক্ত করার পাশাপাশি বৈষম্য দূর করা এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

৭ অক্টোবর, শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে এমপিও শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতারা এসব দাবি জানান।

জাতীয় প্রেসক্লাবে বৈষম্য দূর করতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতারা, ছবি: শিক্ষা নিউজ
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতারা, ছবি: শিক্ষা নিউজ

দাবি-দাওয়াগুলো হলো:

০১. আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় শতভাগ বৃদ্ধি করতে হবে।

০২. এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সকল নিয়োগ সরকার দখলে নিতে হবে, বদলি ও পদোন্নতি অবিলম্বে শুরু করতে হবে। বিশেষ করে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ০১ জানুয়ারি, ২০২৪ থেকে তাদের বেতন-ভাতা ইএফটি-র মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

০৩. মাধ্যমিক মহাপরিচালককে আলাদা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আনুপাতিক হারে শিক্ষা প্রশাসনে নিয়োগ দিতে হবে। অধিকন্তু, এমপিওর অধীনে শিক্ষাক্ষেত্রে উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের তদারকির জন্য নিম্ন গ্রেডের কোনো সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ/দায়িত্ব পালন করা যাবে না।

০৪. নতুন কারিকুলামে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের সম্মিলিত সিলেবাস ও মার্কশিট (৫০+৫০) নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রতিটি অধ্যায়ে অনুশীলন করার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক গণিত প্রশ্ন সন্নিবেশ করান। এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির প্রতিটি বিষয়ে পাঠ্যক্রম ও বিতরণের পর বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার জন্য দিতে হবে।

০৫. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেলে ০৬ গ্রেডে উন্নীত করতে হবে যেমন দুটি উচ্চ গ্রেডের সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকদের দুটি উচ্চতর গ্রেড দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন জোটের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্তমানে সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন, ৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং ২০% বৈশাখী ভাতা পান। তবে তারা (এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী) মাসে এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া, মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা পান, যা অমানবিক। স্কেলভিত্তিক উৎসব ভাতা ও বাড়িভাড়াসহ চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ টাকায় উন্নীত হলেই এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকার এমপিও ভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো আয় সরকারি কোষাগারে জমা করে না। এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয় সরকারি কোষাগারে জমা হলে এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সরকারের জন্য সহজ হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এবং কোনো সরকারি দপ্তরে ডেপুটেশনে এমপিও শিক্ষকদের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় তাদের অধিকার কোনো সরকারি ফোরামে উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয় না।

শিক্ষা নিউজ :

শিক্ষার সব খবর পড়ুন shikkhanews.com এ

তাই এমপিও শিক্ষক সমাজ মনে করে, মাধ্যমিক মহাপরিচালককে আলাদা করে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের দ্বারা এটি পরিচালনা করা উচিত এবং আনুপাতিক হারে এমপিও শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের সেখানে পদায়ন করা উচিত। তবেই শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি বর্তমানে প্রবর্তিত নতুন পাঠ্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন হবে। .বিশেষ করে এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হলে এদেশের সব শ্রেণি-পেশার ছেলেমেয়েরা কম বেতনে শহর ও গ্রামের একই মানের সরকারি স্কুলে পড়তে পারবে এবং অভিভাবকদের শিক্ষা ব্যয় কমবে।

তিনি বলেন, এমপিও শিক্ষাকে জাতীয়করণ করতে হলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারের সদিচ্ছা ও সাহসী ভূমিকা প্রয়োজন, যা একমাত্র বর্তমান সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নিতে পারেন।

আরও পড়ুন: নীরবে নিভৃতে কাঁদে শিক্ষা গুরুর প্রাণ ও মান : বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৩

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপ নভেম্বরে

জোটের আহ্বায়ক ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি ড. মাইন উদ্দিনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন আজিজী, প্রফেসর ড. হানিফ খান, ভাইস প্রিন্সিপাল ড. আবদুর রহমান, ডা. মোইদ্রিস আলী, অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম, তালুকদার আব্দুল মান্নাফ, জসিম উদ্দিন শেখ, বেনী মাধব শীল, রতন কুমার দেবনাথ, শহিদুল ইসলাম, মোঃ ফরিদ উদ্দিন, মোঃ রুহুল আমিন, মোঃ জহিরুল ইসলাম, মোআব্দুল জব্বার, মাজবাউল ইসলাম প্রিন্স, ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশার, ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন, রাকিবুল হাসান রাসেল, গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ।

শিক্ষা নিউজ : আর আর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button