স্পোর্টস ডেস্ক
আজ : ৯ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রবিবার প্রকাশ করা : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১

  • দেশের হয়ে দ্রুততম ১০০ রানের নতুন রেকর্ড মিরাজের

    সেঞ্চুরি ছুঁতে এক’টা উইকেট দরকার ছিল। শেন মোজলির ব্যাট ছুঁয়ে বল’টা দ্বিতীয় স্লিপে মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে জমা পড়তে’ই সেঞ্চুরি হয়ে গেল মেহেদি হাসান মিরাজের। বাংলাদেশে’র হয়ে টেস্টে ১০০’তম উইকেট পেয়ে গেলেন ২৩ বছর বয়সী অফ স্পিনার।

    বাংলাদেশে’র হয়ে এত দ্রুত টেস্টে ১০০ উইকেট আর কেউ পান’নি। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে’র বিপক্ষে এই টেস্টটি মিরাজে’র ক্যারিয়ারে’র ২৪তম টেস্ট। মিরা’জ পেছনে ফেললেন তাইজুল ইসলাম, সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ রফিক’কে।

    টেস্টে বাংলাদেশে’র হয়ে ১০০ উইকেট পেয়েছেন’ই এখন পর্যন্ত এই ৪ জন বোলার। এর মধ্যে মাইলফলক’টাতে পৌঁছা’তে তাইজুলে’র লেগেছে ২৫ টেস্ট, সাকিবে’র ২৮ ও রফিকে’র ৩৩ টেস্ট। বলা বাহুল্য, চার স্পিনারের মধ্যে শুধু মিরাজ’ই ডান’হাতি।

    মিরাজে’র কীর্তি গড়া’র সৌজন্যে বল হাতে বাংলাদেশে’র শুরুটা ভালো’ই হলো। প্রথম ইনিংসে ১১৩ রানে’র লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু ক’রা ওয়ে’স্ট ইন্ডিজ এই প্রতিবেদন লেখা’র সময়ে ৩ উই’কেট হারিয়ে করেছে ৩৯ রান।

    বাংলাদেশে’র ইনিংসে’র সময়ে ক্যারিবী’য় স্পিনার রাকিম কর্নওয়ালে’র সাফল্য’ই বুঝিয়ে দিচ্ছিল, এই পিচ আস্তে আস্তে স্পিনার’দের দিকে হাত বাড়াবে। যদিও কর্নওয়ালের পাঁচ উইকেট পাওয়ার পেছনে বাংলাদেশে’র ব্যাটসম্যানদের’ও দায় ছিল। উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে’র বেশিরভাগ ব্যাটস’ম্যানই!

    তা যা-ই হো’ক, কর্নওয়ালে’র সাফল্য তো আছে’ই, পাশা’পাশি বাংলাদেশে’র তিন স্পিনা’র ও দুই মিডিয়াম পেসার নিয়ে নামার কৌশ’ল আগেই বুঝিয়ে দি’য়েছে, এই টেস্টে স্পিন’ই বাংলাদেশে’র ভরসা। ওয়েস্ট ইন্ডিজে’র দ্বিতীয় ইনিংসে’র শুরু থেকেই স্পিন আ’ক্রমণে আনেন অধিনায়ক মুমিনুল হক।

    সাফল্য পে’তে অবশ্য সময় লাগে’নি। মিরাজে’র আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসে’র চতুর্থ ওভারে’ই ধাক্কা দিয়েছেন নাঈম। উইকেট পাওয়ায় অবশ্য উইকেট’কিপার লিটন দাসের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা’রও অবদান আছে।

    চতুর্থ ওভারে’র তৃতীয় বলে নাঈমে’র করা লেগ স্টা’ম্পের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বলটাকে থার্ড’ম্যান অঞ্চলে সীমানার বাইরে পাঠাতে চেয়েছি’লেন উইন্ডিজ ওপে’নার ক্রেইগ ব্রাথওয়েইট। কিন্তু বলের লাইনে যে’তে পারেননি। বল চলে যা’য় পেছনে লিটনের হাতে।

    বাংলা’দেশ ক্যাচের আবেদন ক’রলেও আম্পায়ার নাকচ করে দেন, কিন্তু লিটন সেকে’ন্ডও কাল’ক্ষেপণ না করে অধিনায়ক মুমিনুলকে জানি’য়ে দেন রিভিউ নিতে। রিভিউতে পরে দেখা যায়, বল যাওয়া’র প’থে ব্রাথওয়েইটের গ্লাভস আলতো’ভাবে ছুঁয়ে গেছে।

    ১১ রানে উদ্বোধ’নী জুটি ভাঙার পর ঠিক পাঁচ ওভা’র পর ধাক্কা দিলেন মি’রাজ। ২০ রানে ২ উইকেট হা’রানোর পর জন ক্যাম্প’বেল ও বোনার কিছুটা থিতু হয়ে’ছিলেন উইকেটে। কিন্তু তাইজুল দ্বি’তীয় স্পেলে এসে সে জু’টি ভেঙে দেন।

    প্রথম স্পে’লে দারুণ লাইন-লেংথ রেখে ৪ ওভারে ১০ রান দিলেও উ’ইকেট পাননি তাই’জুল। দ্বিতীয় স্পেলে এসে প্রথম ওভারেই তুলে নিলেন ক্যাম্প’বেলকে। কিন্তু উইকেটটা অদ্ভুতূ’ড়েই। তাইজুলে’র বলে ডিফেন্সিভ শট খেলেছি’লেন ক্যাম্পবেল। কিন্তু বল তাঁ’র ব্যাটে লাগার পর পিচে একবার বাউন্স করে চলে গেল পেছ’নে। ক্যাম্পবেল তখন শ’টের স্টান্স ধরে দাঁড়ি’য়ে, আর বল তাঁর পেছনে গিয়ে ঘুর’তে ঘুরতে গিয়ে পড়ল স্টাম্পে। বেল প’ড়ে গেল! বাংলা’দেশ তখন উচ্ছ্বসিত, আর ক্যাম্পবেল তখনো কীভাবে কী হলো সে হি’সেব মে’লাতে ব্যস্ত।