প্রাথমিক

প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইমস্কেল জটিলতা নিরসন

০৯ মার্চ ২০১৪ থেকে ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইমস্কেল জটিলতার নিরসন হল

Table of Contents

শিক্ষা নিউজ : দীর্ঘদিন ৯ বছর দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইমস্কেল বিড়ম্বনা পোহানোর পর অবশেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি আমলে নিয়ে টাইমস্কেল সমস্যার সমাধান করেছে।

২০১৫ সনে জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার সময় দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্য থেকে সহকারী শিক্ষকদের প্রদান করা হয় ১৪ তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের প্রদান করা হয় ২ ধাপ উপরে ১২ তম গ্রেড।

এরপর বহু আন্দোলন সংগ্রাম করে দেশের সরকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ আরো একধাপ এগিয়ে ০৯ মার্চ ২০১৪ তারিখে ১১ তম গ্রেড ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা পায়। সাথে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা একধাপ এগিয়ে ১৩ তম গ্রেড প্রাপ্ত হয়। যদিও প্রধান শিক্ষকদের পরের ধাপে বেতন গ্রেডের আবেদন ছিল সহকারী শিক্ষকদের।

আগেই বলা হয়েছে প্রধান শিক্ষকবৃন্দ যে ১১তম গ্রেড প্রাপ্ত হয়, সেই একাদশ গ্রেডটি হল কর্মকর্তাদের গ্রেড। এই কর্মকর্তা যখন তারা হয়ে গেলেন, ঠিক তখন প্রশ্ন দেখা দিল, তারা গেজেটেড কর্মকর্তা নাকি নন গেজেটেড? এটি স্পষ্ট করণে লেগে গেল দীর্ঘ সময়।

এ সময়ের মধ্যে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত গ্রেডে টাইমস্কেল প্রদানের ক্ষেত্রে তখন জটিলতা চলে আসে। আর সে জটিলতা হল তারা কি একজন গেজেটেড কর্মকর্তার মত টাইমস্কেল পাবেন, নাকি নন-গেজেটেড অফিসারদের মত টাইমস্কেল পাবেন। এভাবেই চলে গেছে দীর্ঘ নয়টি বছর।

সর্বশেষ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি আমলে নিয়ে, মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় -২ শাখা ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির প্রধান শিক্ষক পদটি গেজেটেড/নন গেজেটেড বিষয়ে স্পষ্টিকরণ বিষয়ক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইমস্কেল জটিলতা নিরসনের প্রজ্ঞাপন
প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইমস্কেল জটিলতা নিরসনের প্রজ্ঞাপন

যাতে বলা হয়, ১। জনাব আব্দুল কাইয়ুম, প্রধান শিক্ষক, টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিশ্বনাথ, সিলেট এর তারিখের আবেদন। ও
২। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পত্র নং-০৫. ০০. ০০০০. ১০৫. ১০. ০০২. ২০১৩: ১৮৯, তারিখ ০৩.০৬.২০২১ ও ৩। প্রধান হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের পত্র নং-সিড/প্রাগম/নিঃ ২/১৪৯/২৫৯ (৩), তারিখ ১৩.০১.২০১৬। ও ৪। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পত্র নং-৩৮,00,0,0,0,002.2010-৫০৪, তারিখ ১২.৮.২০১৫ ও ৫। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পত্র নং-৩৮,৩০৮,৩৫,৩৩,০০,০১০, ২০১৩-১১২, তারিখ-০৯,০৩,২০১৪।

তথা প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুম, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পত্র, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পত্র ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পত্র বুনিয়াদে উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে আদিষ্ট হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি ৫ নং সূত্রস্থ আদেশমূলে ২য় শ্রেণিতে উন্নীতকরণের সময় গেজেটেড হিসেবে উল্লেখ না থাকায় ২ নং সূত্রস্থ জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্মারক পত্রের মর্মানুযায়ী উক্ত পদটি নন-গেজেটেড কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত। সে বিবেচনায় চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০০৯ অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য টাইম স্কেলসহ বেতন ভাতাদি নির্ধারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক তা কার্যকরের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের হিসাবরক্ষণ অফিসসমূহে নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হ’ল। যা মোহাম্মদ কবির উদ্দীন, উপসচিব কর্তৃক স্বাক্ষরিত।

অত:পর এবিষয়ে বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. বদরুল আলমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা আজ মোহাম্মদ কবির উদ্দীন উপসচিব কর্তৃক জারীকৃত চিঠি নিয়ে আজ সিজিএ অফিসে গমন করি, সেখানে সিজিএ অফিস সিও এর সাথে কথা হলে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, শিক্ষকদের ০৯.০৩.২০১৪ সাল থেকে ১৪.১২.২০১৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া টাইমস্কেল নিয়ে আর কোন জটিলতা আর থাকবেনা। এবিষয়ে চিপ জেনারেল একাউন্ট অফিস অত্যন্ত আন্তরিক। এবং তারা এবিষয়ে মাঠ পর্যায়ে দ্রুত নির্দেশনা দিবেন বলে জানিয়েছেন।

মো. বদরুল আলম শিক্ষা নিউজকে আরো জানান, এটি মূলত আমাদের ন্যায্য পাওনা, এটি প্রমোশন ছিল না যে, এটি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হবে। আমরা ০৯.০৩.২০১৪ সালের আগেও প্রধান শিক্ষক ছিলাম, এখনো প্রধান শিক্ষক। অথচ এই একটি চিঠি করাতে আমাদের দীর্ঘ নয় বছর লাগল!

সর্বশেষ, এরপর থেকে দেশের সরকারী প্রধান শিক্ষকদের এখন থেকে আর টাইমস্কেল জটিলতা নেই। তারা বিগত ০৯. ০৩. ২০১৪ তারিখ থেকে ১৪.১২.২০১৫ তারিখ পর্যন্ত বকেয়া টাইমস্কেলের সমুদয় পাওনা প্রাপ্ত হবেন। সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের হিসাব রক্ষণ বা একাউন্স অফিসকেও এই পত্রে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নির্বাচিত ২০টি পিটি

তিন দিন ছুটি পাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীরা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পাঁচ হাজার করে টাকা পাবেন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন, কেজি স্কুল বন্ধ ও বৃত্তি পরীক্ষার আপডেট

প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি সহ শিক্ষা ও চাকুরীর সব ধরণের নিউজ পেতে নিয়মিত শিক্ষা নিউজ পড়ুন। আমাদের ওয়েব ঠিকানা shikkhanews.com. এ সার্চ করুন। আপডেট থাকুন!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Table of Contents

Index