মাধ্যমিক

মাধ্যমিকে থাকছে না রোল নম্বর, মূল্যায়ন হবে কীভাবে

শিক্ষা নিউজ ডেস্ক, ঢাকা : : মাধ্যমিক স্তরের ক্লাসে আর থাকছে না রোল নম্বর। এখন ষষ্ঠ শ্রেণিতেই হবে শিক্ষা বোর্ড এর রেজিস্ট্রেশন। সেটি দিয়েই শনাক্ত করা হবে যে কোন শিক্ষার্থীকে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবিষয়ে বলছে, এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘অসুস্থ’ প্রতিযোগিতা কমবে। তবে রোল নম্বর না থাকলেও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে আলাদা গ্রুপ তৈরির পরামর্শ শিক্ষা নিয়ে যারা গবেষণা করছে তাদের।

আরও পড়ুন : যে আশ্বাস পেয়ে ঘরে ফিরল মাধ্যমিক শিক্ষকরা

এসএসসির টেস্টের ফল ২৬ অক্টো, ফরম পূরণ শুরু ৩০

মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের কাজ চলছে

কিভাবে মোবাইলে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ দেখবেন

বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার

মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ

এতদিন নবম শ্রেণিতে শিক্ষা বোর্ডে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রথম পাবলিক পরীক্ষা এসএসসিতে বসে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। তবে এখন বা ২০২৪ সাল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরই করতে হবে শিক্ষা বোর্ড রেজিস্ট্রেশন।

বোর্ড বলছে, রেজিস্ট্রেশনের ফলে কতজন শিক্ষার্থী কোন শ্রেণিতে রয়েছে, তার একটি সুস্পষ্ট চিত্র শিক্ষা বোর্ডের কাছে থাকবে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন করা মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর তথ্য একটি অ্যাপে যুক্ত করা হবে। এবং এই অ্যাপ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পারদর্শিতার তথ্য রেকর্ড সংরক্ষণ করা হবে। আর একারণেই রেজিস্ট্রেশন‌ নম্বর দিয়ে শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করার সুযোগ থাকায় প্রয়োজন‌ হবে না কোন রোল নম্বরের।

এ ছাড়া আগেই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন থাকায় যে কোন পাবিলক পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থী ও বোর্ড কর্তৃপক্ষের চাপ কমবে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে প্রচিলত রোল নম্বর না থাকলে কমে আসবে অসুস্থ প্রতিযোগিতা।

এবিষয়ে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি, অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, এখনকার নিয়মে কোনো শিক্ষার্থী প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় হলে তাদের রোল নম্বর ১, ২, ৩ করে ধারাবাহিকভাবে হয়। কিন্তু বর্তমান আমাদের নতুন কারিকুলামে ওই রকম প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় থাকবে না। তাই মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর জন্য একটা স্টুডেন্ট আইডি প্রয়োজন হবে। এরসাথে আমাদের একটা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দরকার হবে। এ-বিষয়ক ডেটাবেজ তৈরি হচ্ছে। এই ডেটাবেজে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ওই রেজিস্ট্রেশন নম্বরে তার সকল পারফরম্যান্স লিপিবদ্ধ থাকবে।

এবিষয়ে তিনি আরও বলেন, পড়াশোনা হবে ইন্টারেকটিভ ও সবার জন্য একই মানের। প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন হবে না, মূল্যায়ন হবে পারফরম্যান্সের ওপর। আর এখন থেকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় থাকছে না। সেজন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও থাকবে না।

তবে শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, রোল নম্বর থাকা না-থাকা কোনো বিষয় নয়, শিক্ষার্থীর কোথায় ঘাটতি তা চিহ্নিত করতে শিক্ষার্থীদের একক না হলেও গ্রুপভিত্তিক ক্যাটাগরি থাকা জরুরি।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের একটি ক্যাটাগরিতে ফেলতে পারি বা দলীয়ভাবে একটি মূল্যায়নের পর্যায়ে ফেলে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করতে পারি। কিন্তু এখানে যে বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হচ্ছে একধরনের প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। যেটাকে বলা হয়, পজিটিভ ইনসেনটিভ। এই পজিটিভ ইনসেনটিভে আমরা ব্যর্থ হয়েছি বলে দুর্নাম করা হচ্ছে, যেটাকে আমি মনে করি এটি আমাদের বিশেষজ্ঞদের অজ্ঞতা।

এছাড়া আগামী বছর ২০২৪ এ অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম চালুর আগেই সরাসরি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরামর্শ শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের।

শিক্ষা নিউজ : আর আর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button