ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
আজ : ৯ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রবিবার প্রকাশ করা : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১

  • স্থানীয়দের সঙ্গে জাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ। আহত অর্ধশতাধিক

    ক্রিকেট খেলা-কে কেন্দ্র করে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর’নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী’দের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া বাজারে চলমান এ ঘটনা’য় উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধ-শতাধিক আহত হয়েছেন। এ সময় স্থানীয়দে’র বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী’দের চারটি মোটরসাইকেল ও শিক্ষার্থী’দের বিরুদ্ধে বেশকিছু দোকান ভাংচুর করার অভিযোগ উঠেছে।

    এদিকে আহত শিক্ষার্থী’দের মধ্যে কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যাল’য়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হলেও আহত অন্য শিক্ষার্থী’দের স্থানীয়রা আটকে রেখেছেন বলে জানান উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী’রা।

    পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে আশে’পাশের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা’ও আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে বিশ্ব’বিদ্যালয়ের পাশে বেশকিছু দোকান ভাংচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ও টিয়ার’শেল ছোড়া হলেও তা উপেক্ষা করে বার-বার সংঘর্ষ হচ্ছে।

    বিশ্ববিদ্যাল’য়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎস’ক মাহবুব বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ৪০-৪৫ জন শিক্ষার্থী’কে চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের অধিকাংশের’ই মাথা, হাত, পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন জায়’গায় জখম হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন’কে সাভারের এনাম মেডিকেল হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথ-মিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ে’র প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘শুনেছি গেরুয়া বাজারে মেসে থাকা আমা’দের অনেক শিক্ষার্থীর বাসায় স্থানীয়রা তল্লাশি চালা’চ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে’র বাইরের শিক্ষার্থীর দায়িত্ব আমি নেব না।’

    পাতালিয়া ইউ’নিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পার’ভেজ দেওয়ান বলেন, ‌‘গেরুয়ায় ক্যাম্পাসে’র ছেলেরা স্থানীয় দোকান’দারের কাছে চাঁদা চাইলে তারা শিক্ষার্থী’দের ওপর চড়াও হয়। সন্ধ্যা’র পর থেকেই উভয় পক্ষে’র মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত স্থানীয়’দের কতজন হতাহত হয়েছে তা জানি না। তবে পুলিশ নিয়ন্ত্রণে’র চেষ্টা করছে।’

    সাভার থানা’র ওসি (তদন্ত) এফ এম সাঈদ বলেন, আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। আহত শিক্ষার্থী’দের উদ্ধার করার চেষ্টা করছি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে’র উপাচার্য অধ্যা’পক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যাল’য়ের গেইটের বাইরে আমার প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মীদের কিছু করার নেই। আমি পুলিশ পাঠানো’র জন্য ঢাকা-সহ বিভিন্ন জায়গায় কথা বলছি। তোমরা শিক্ষার্থী’রা মাথা ঠান্ডা রাখো।’
    কিন্তু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী’রা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে’র অনেক শিক্ষার্থী গেরুয়াতে বাসা বাড়া নিয়ে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে সেসব বাসায় যাওয়া অনিরাপদ। তাই বিশ্ববিদ্যাল’য়ের হল খুলে দেওয়ার দাবি জানান তারা। কোনো কোনো ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী তালা ভেঙে হলে প্রবে’শ করার কথাও জানান।

    আশুলিয়া থানার ও’সি কামরুজ্জামান বলে’ন, আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। আহত শিক্ষার্থী’দের উদ্ধার করার চেষ্টা করছি। কিন্তু তা কঠিন হয়ে যা’চ্ছে। এখনও পরি’স্থিতি নিয়ন্ত্রণে’র নয়।