ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ এই কথাটি আমাদের জীবনের একটি বড় সত্যি। জীবনে সুখ পেতে হলে শুধু নিজের কথা ভাবলে চলবে না। যারা ত্যাগ করতে জানে, তারাই আসল সুখ খুঁজে পায়। এই ভাবসম্প্রসারণ এসএসসি, এইচএসসি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য খুবই জরুরি। আগের বছরের পরীক্ষার প্রশ্ন দেখলেই বোঝা যায়, এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
জীবনে আমরা যদি শুধু ভোগ করার দিকে মন দিই, তাহলে কখনো মনের শান্তি পাব না। যেমন, সময় কারো জন্য থেমে থাকে না। তেমনি, শুধু নিজের সুখের কথা ভেবে জীবন কাটালে কেউ কখনো খুশি হতে পারে না। যারা আরেকটু ত্যাগ করে, অন্যের জন্য কিছু করে, তারাই জীবনে আসল আনন্দ পায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন মা তার সন্তানের জন্য সবকিছু ত্যাগ করেন। তার এই ত্যাগই তাকে সুখ দেয়।
প্রকৃত সুখ তখনই মেলে, যখন আমরা অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে পারি। যারা মানুষের জন্য কাজ করে, তাদের বিপদে সবাই এগিয়ে আসে। তাদের জন্য অনেকে দোয়া করে। তাই বলা যায়, ত্যাগের মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ। নিজের চেয়ে অন্যকে বেশি ভাবলে জীবন সুন্দর হয়ে ওঠে। ত্যাগ আমাদের মনকে বড় করে, আর সেই বড় মনই সুখের চাবিকাঠি।
ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত সুখ ভাব সম্প্রসারণ
মুলভাব: কখনো কখনো কিছু ছেড়ে দেওয়ার মধ্যেও অনেক সুখ পাওয়া যায়। আমরা যদি শুধু নিজের লাভের কথা ভাবি, তাহলে কখনো পুরোপুরি সুখী হতে পারব না। অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যে একটা আলাদা মজা আছে। যেমন, কাউকে সাহায্য করলে বা তার জন্য কিছু ত্যাগ করলে মন ভালো হয়ে যায়। এই সুখ টাকা দিয়ে কেনা যায় না। অন্যকে দেওয়ার আনন্দ অনেক বড়। তাই জীবনে ভারসাম্য রাখা দরকার নিজের চাওয়া আর অন্যের ভালো, দুটোর মাঝে মিল রেখে চললে জীবনটা আরও সুন্দর হয়। এভাবে চললে মনে শান্তি আর তৃপ্তি আসে।
সম্প্রসারিত ভাব: ভোগ আর ত্যাগ হলো দুটি একেবারে উল্টো বিষয়। মানুষ সাধারণত শরীরের সুখের জন্য ভোগের পেছনে ছুটে। কিন্তু অনেকে মনের শান্তি আর তৃপ্তির জন্য ত্যাগের পথ বেছে নেয়। ভোগ দিয়ে হয়তো কিছুক্ষণের জন্য সুখ মেলে, তবে যারা ত্যাগ করতে ভয় পায় না, তারা সত্যিকারের গভীর আনন্দ পায়। ভোগের পেছনে ছুটতে গিয়ে মানুষ অনেক সময় খারাপ পথে চলে যায়। তারা হিংসা, ঘৃণা, স্বার্থপরতার মতো জিনিসকে বন্ধু করে নেয়। যারা শুধু ভোগের দিকে মন দেয়, তারা নিজের জিনিস কখনো অন্যের জন্য খরচ করে না। অন্যের দুঃখ দেখে তাদের মন গলে না। বরং তারা নিজের সুবিধার জন্য সুযোগ খুঁজে বেড়ায়।
ভোগবাদী মানুষের কাছে মানুষের ভালোবাসা বা অন্যের জন্য কিছু করার মূল্য থাকে না। তাই সমাজে তাদের কোনো সম্মানও থাকে না। তারা মানুষ হিসেবে জন্মালেও তাদের মনের মানবিকতা বড় হয় না। অন্যদিকে, যারা ত্যাগকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তারা সমাজের জন্য অনেক কিছু করে। তারা অন্যের বিপদে এগিয়ে যায়, নিজের সুবিধা না ভেবে সবার ভালোর কথা চিন্তা করে। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তারা নিজের সম্পদ দিয়ে দেয়, আর এতে তাদের মন ভরে ওঠে।
ভোগের পেছনে ছুটে যারা সম্পদ জমায় আর বিলাসিতায় ডুবে থাকে, তারা মনে করে এটাই সুখ। কিন্তু সত্যি বলতে, এভাবে তারা কখনো প্রকৃত সুখ পায় না। উল্টো যারা অন্যের জন্য ত্যাগ করতে রাজি, তারা সমাজের কল্যাণে কাজ করে। এই কাজের মধ্য দিয়ে তারা নিজেরাও শান্তি আর আনন্দ পায়। ত্যাগের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে আর সমাজকে উন্নত করে। তাই ভোগের চেয়ে ত্যাগই জীবনে বেশি মূল্যবান।
মন্তব্য: ত্যাগের গুণ অনেক বড়। মানুষের ভালো গুণ বাড়াতে ত্যাগের মতো কিছু নেই। সব সময় ভোগ করতে চাইলে মন খারাপ আর ছোট মনে হয়। আসলে ত্যাগ করলেই মন ভরে ওঠে। এজন্যই বলা হয়, ভোগে সুখ নেই, ত্যাগেই আসল শান্তি। তাই আমাদের ভোগের পেছনে না দৌড়ে কিছু ছেড়ে দিয়ে সবাইকে নিয়ে একটা সুন্দর পৃথিবী গড়তে হবে। ত্যাগ শুধু মনকে হালকা করে না, অন্যদের জন্যও ভালো কিছু করার সুযোগ দেয়। এভাবে আমরা সবাই মিলে একটা নতুন দিন শুরু করতে পারি।
সর্বশেষ: ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ – এই ভাবসম্প্রসারণ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য পড়তে বাধ্য করা উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ, এটি পড়লে তারা সহজে বুঝতে পারবে যে নিজের সুখের চেয়ে অন্যকে দেওয়াতেই আনন্দ বেশি। আজকের ছাত্র-ছাত্রীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই ভবিষ্যৎকে সুন্দর করতে হলে শিক্ষার্থীদের ছোট থেকেই পরের ভালো চিন্তা করতে শেখা দরকার। এই ভাবসম্প্রসারণ মনের মধ্যে গেঁথে গেলে তারা স্বার্থপর না হয়ে সবাইকে নিয়ে চলতে শিখবে। তাছাড়া, ত্যাগের মাধ্যমে তারা নিজের মনকে শান্ত রাখতে পারবে এবং জীবনে সত্যিকারের সুখ খুঁজে পাবে। এটি শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত।