সবাইকে হ্যালো! আজ আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলবো, যেটা শিক্ষকদের জন্য খুবই বড় খবর। বাংলাদেশে যারা শিক্ষকতার চাকরির জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের জন্য এনটিআরসিএ (NTRCA) নতুন কিছু তথ্য দিয়েছে। বিশেষ করে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি এবং শিক্ষক নিবন্ধন নিয়ে অনেক আশার কথা শোনা যাচ্ছে। আমি আজ এই বিষয়টা নিয়ে সহজ ভাষায় আলোচনা করবো, যাতে সবাই বুঝতে পারে। তাহলে চলুন, শুরু করা যাক।
এনটিআরসিএ নোটিশ ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি কবে ২০২৫
এনটিআরসিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কাজ শুরু হতে পারে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর। এখন পর্যন্ত যা শোনা যাচ্ছে, এই মৌখিক পরীক্ষা চলতি মাসে, মানে এপ্রিল ২০২৫-এর মধ্যে শেষ হবে। তারপরই এনটিআরসিএ বসে এই বিষয়ে আলোচনা করবে। তবে একটা সম্ভাব্য সময়সূচি হিসেবে বলা হচ্ছে, আগামী মে মাসে আমরা ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের খবর পেতে পারি। এটা শুনে অনেকের মনে আশা জাগছে, কারণ অনেকেই এই বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করছেন।
একটা সূত্র থেকে আরও জানা গেছে যে, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি এবং ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি দুটোই এই বছরের মধ্যে প্রকাশিত হবে। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি। এটা একটু হতাশার খবর হতে পারে, কিন্তু এটাও সত্যি যে এনটিআরসিএ তাদের নিজস্ব নীতিমালা মেনে কাজ করে। তাই আমাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে।
এনটিআরসিএর সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক এই বিষয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস নামের একটি পত্রিকাকে বলেছেন, “আমাদের একটা নির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। সেই নীতিমালার বাইরে আমরা কিছু করতে পারি না। যেভাবে নীতিমালায় বলা আছে, সেভাবেই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এখন এর বেশি কিছু বলার নেই।” এই কথা থেকে বোঝা যায়, তারা কোনো তাড়াহুড়ো করতে চান না। সবকিছু ঠিকঠাক পরিকল্পনা করে এগোতে চান।
৫ম গণবিজ্ঞপ্তি থেকে আমরা যা জানলাম
এর আগে ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ এনটিআরসিএ ৫ম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। সেই বিজ্ঞপ্তিতে মোট ৯৬ হাজার ৭৩৬টি শূন্য পদ ছিল। এর মধ্যে স্কুল-কলেজে ছিল ৪৩ হাজার ২৮৬টি পদ আর মাদরাসা, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ছিল ৫৩ হাজার ৪৫০টি পদ। পরে ২১ আগস্ট ২০২৪ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯ হাজার ৫৮৬ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সম্মতি দেয়। এই সংখ্যা দেখে বোঝা যায়, এনটিআরসিএ বেশ বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগের কাজ করে যাচ্ছে। তবে অনেকে বলেন, এত শূন্য পদ থাকার পরও অনেকে চাকরি পান না। এটা নিয়ে একটু হতাশা থাকলেও, নতুন বিজ্ঞপ্তি আশা জাগায়।
এনটিআরসিএ মানে নন-গভর্নমেন্ট টিচার্স রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড সার্টিফিকেশন অথরিটি। এটি ২০০৫ সাল থেকে শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ দিয়ে আসছে। প্রথম ১০ বছর, মানে ২০০৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত, শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ছিল স্কুল-কলেজের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির হাতে। কিন্তু ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সরকার এনটিআরসিএকে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করার ক্ষমতা দেয়। এরপর থেকে তারা পাঁচটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আর ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষকের নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে। এই সংখ্যাটা দেখলে বোঝা যায়, এনটিআরসিএ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বড় ভূমিকা রাখছে।
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন কেন গুরুত্বপূর্ণ
এখন যেহেতু ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা চলছে, এটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে কোনো বড় সিদ্ধান্ত হবে না। এই পরীক্ষার মাধ্যমে অনেক প্রার্থী তাদের সনদ পাবেন। আর এই সনদই তাদের গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করার যোগ্যতা দেবে। তাই এই পরীক্ষাটা অনেকের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। যারা এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, তাদের জন্য শুভকামনা। আশা করি, তারা ভালো ফল করবেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে কতগুলো শূন্য পদ থাকবে? এটা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে যেহেতু প্রায় ৯৭ হাজার পদ ছিল, তাই এবারও বড় সংখ্যক পদ থাকার সম্ভাবনা আছে। বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা আর কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের চাহিদা অনেক। তাই এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনেকের চাকরির স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।
আরেকটা বিষয় হচ্ছে, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন। এটাও এই বছরের মধ্যে প্রকাশিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। যারা এখনো নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেননি, তাদের জন্য এটা একটা সুযোগ হতে পারে। তবে এনটিআরসিএ যেহেতু তাদের নীতিমালা মেনে চলে, তাই সবকিছু ধাপে ধাপে হবে।
যারা ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের জন্য আমার পরামর্শ হচ্ছে ধৈর্য ধরুন। এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে নিয়মিত চোখ রাখুন। কারণ সেখানেই সব আপডেট প্রথমে দেওয়া হয়। আর যারা শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা এখন থেকে পড়াশোনায় মন দিন। কারণ এই সনদ ছাড়া আপনি গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারবেন না।
তো বন্ধুরা, এই ছিল ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি আর শিক্ষক নিবন্ধন নিয়ে এনটিআরসিএর সর্বশেষ খবর। আমি চেষ্টা করেছি সহজ ভাষায় সবটা বোঝাতে। আশা করি, আপনাদের ভালো লেগেছে। এই বিজ্ঞপ্তি অনেকের জীবনে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসবে। তাই আমরা সবাই মিলে অপেক্ষা করি, আর আশা করি সবকিছু ঠিকঠাক হবে। আপনাদের কী মনে হয়? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। সবাই ভালো থাকুন, এই কামনা করি। দেখা হবে আবার নতুন কোনো আলোচনায়। এরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সবার আগে পড়তে শিক্ষা নিউজের এই ক্যাটাগরি পড়ে দেখুন।