অনেকেই হয়তো খবরটা শুনে একটু অবাক হয়েছেন। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা পেছানোর জন্য একদল শিক্ষার্থী গলা তুলেছেন। তাদের দাবি শুনে মনে হচ্ছে, এই বছরের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে তারা বেশ চিন্তায় আছেন। আমি নিজেও একসময় এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলাম, তাই তাদের এই দাবির পেছনে যে যুক্তিগুলো আছে, সেগুলো বোঝার চেষ্টা করলাম। আজকের এই লেখায় আমি তাদের দাবি-দাওয়া, যুক্তি আর পরিকল্পনা নিয়ে একটু বিস্তারিত আলোচনা করবো। চলুন, দেখে নিই পুরো বিষয়টা।
এসএসসি পরীক্ষা ২০২৫ পেছানোর দাবি
গত ৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২৫ নামে একটি গ্রুপের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এই বিজ্ঞপ্তিতে তারা দুটো বড় দাবি তুলে ধরেছেন। প্রথমত, তারা চান পরীক্ষা আরও অন্তত এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হোক। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি পরীক্ষার মাঝে তিন থেকে চার দিনের বিরতি রাখা হোক। এই দাবিগুলো শুনে প্রথমে মনে হতে পারে, এটা কি একটু বেশি চাওয়া হয়ে গেল না? কিন্তু তাদের যুক্তিগুলো শুনলে বোঝা যায়, তারা কেন এমনটা চাইছে।
শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ হলো, এবারের পরীক্ষার সময়সূচি তাদের জন্য খুব একটা সুবিধাজনক নয়। তারা বলছেন, পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে পড়াশোনা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। এবার প্রায় ১৯ লাখ ২৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেবে। রোজার মধ্যে দিনভর না খেয়ে থাকা, তার ওপর পড়তে বসা এটা সত্যিই কঠিন। আমার নিজেরও মনে আছে, রোজার সময় শরীর একটু দুর্বল লাগে, মন বসাতে সময় লাগে। তাদের দাবি, রমজানের পর ঈদের ছুটি শেষ হতেই পরীক্ষা শুরু হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় একদমই পাচ্ছেন না তারা।
তারা আরও বলছেন, পরীক্ষা যদি এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তারা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবেন। না হলে তাদের ফল খারাপ হওয়ার ভয় আছে। এটা শুনে আমার মনে হলো, এই বয়সে পরীক্ষার ফল নিয়ে চিন্তা করাটা খুব স্বাভাবিক। এসএসসি তো জীবনের একটা বড় ধাপ, এখানে খারাপ করলে পরে অনেক কিছুতে প্রভাব পড়তে পারে। তাই তাদের এই দাবির পেছনে যে যুক্তি আছে, তা একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়।
গরমের সমস্যা আর বিরতির দাবি
শিক্ষার্থীদের আরেকটা বড় অভিযোগ হলো এপ্রিল-মে মাসের গরম। আমরা সবাই জানি, এই সময়টা বাংলাদেশে গরম খুব বেশি থাকে। তারা বলছেন, এই গরমে একটানা পরীক্ষা দিতে গেলে শরীরের ওপর চাপ পড়বে। অনেকে হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। আমার নিজেরও মনে আছে, গরমে পরীক্ষা দিতে গেলে ঘামতে ঘামতে কলম ধরাও কঠিন হয়ে যায়। তার ওপর যদি পরীক্ষার কেন্দ্র বাড়ি থেকে দূরে হয়, তাহলে তো আরও সমস্যা।
তাই তারা চাইছেন, প্রতিটি পরীক্ষার মাঝে তিন থেকে চার দিনের বিরতি দেওয়া হোক। এতে তারা একটু বিশ্র, শরীরের ওপর চাপ কমবে, আর পড়াশোনার জন্যও একটু সময় পাবে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হবে, আর ১৩ মে পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা চলবে। মাদরাসা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষা শেষ হবে ১৫ মে। এরপর ২২ মে পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে। এই টানা সময়সূচি দেখে তাদের চিন্তার কারণটা বোঝা যায়।
শিক্ষার্থীরা শুধু দাবি তুলেই থেমে নেই, তারা এই দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনের পরিকল্পনাও করেছেন। তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তারা অবস্থান কর্মসূচি করবেন। এছাড়া অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেবেন। এর মানে হলো, তারা পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করবেন না। এটা শুনে আমার মনে হলো, তারা বেশ সিরিয়াস। কিন্তু এত বড় সিদ্ধান্ত কি তাদের ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি হয়ে উঠবে না? এটা নিয়ে একটু ভাবতে হবে।
শিক্ষা বোর্ডের অবস্থান কী
এখন পর্যন্ত শিক্ষা বোর্ড থেকে এই দাবির ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আমার মনে হয়, এত বড় পরীক্ষার সময়সূচি পেছানোটা এত সহজ নয়। এতে অনেক কিছু জড়িত পরীক্ষার কেন্দ্র, শিক্ষক, প্রশ্নপত্র তৈরি, মূল্যায়ন সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়বে। তবে শিক্ষার্থীদের এই দাবি যদি জোরালো হয়, তাহলে হয়তো বোর্ডকে এ নিয়ে ভাবতে হবে।
এই ঘটনা দেখে আমার মনে হলো, শিক্ষার্থীদের কথা শোনা দরকার। তারা যে দাবি তুলেছে, তা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা থেকেই এসেছে। আমি আশা করি, শিক্ষা বোর্ড আর শিক্ষার্থীরা মিলে একটা ভালো সমাধান বের করতে পারবে। পরীক্ষা তো শুধু পরীক্ষা নয়, এটা তাদের জীবনের একটা বড় সুযোগ। তাই সবাই মিলে এমন একটা পথ খুঁজে বের করা উচিত, যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আপনারা কী মনে করেন? এই দাবি কি মেনে নেওয়া উচিত, নাকি এমনিতেই পরীক্ষা হওয়া উচিত? শিক্ষা সম্পর্কিত সকল তথ্য সবার আগে জানতে শিক্ষা নিউজের এই ক্যাটাগরি ঘুরে দেখতে পারেন।