নিউজ ডেস্ক
আজ : ৯ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রবিবার প্রকাশ করা : ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১

  • Hsc অটোপাশের ভবিষ্যৎ প্রভাব: ২০২০ সাল আমাদের সবার জীবনের এক কলঙ্কজনক বছর

    এই বছরে আসে করোনা ভাইরাস |যেটি স্পর্শ থেকে শুরু করে হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। যদিও এটির উথ্বান ছিল উহান প্রদেশে কিন্ত এটি খুব দ্রুতই সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। আমেরিকা ও ইতালিতে লক্ষাধিক মানুষ মারা যায় এই ভাইরাসে। সারাবিশ্বের মত মার্চের শেষের দিকে করোনা আঘাত হানে বাংলাদেশে। বাংলাদেশেও মানুষ মৃত্যুর হার বাড়তে থাকে।করোনার প্রতিরোধে সুষম খাদ্য, মাস্ক ব্যবহার এবং সতর্কতার সাথে চলাফেরা ইত্যাদি হল জরুরী বিষয়। বাংলাদেশের মত জনাধিক্য দেশে এটি একপ্রকার বড় ধরনের চ্যালেন্জ ছিল। করোনার কারনে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। বিশ্বের শিক্ষা, ব্যবস্যা, রাজনীতি সবকিছু তেই একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ২০২০ এর মার্চের শেষের দিকে স্কুল কলেজ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

    এপ্রিল মাসে ছিল hsc পরীক্ষা। এটির ডেট পরিবর্তন হতেই থাকে এবং সর্বশেষ সরকার সিদ্বান্ত নেয়, শেষ দুটি পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্টের গড় হবে ২০২০ hsc পরিক্ষার্থী দের রেজাল্ট। যেটাকে অটোপাশ বলা হচ্ছে। অনেকেই এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে আবার অনেকে এর বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।

    আমরা যদি বাংলাদেশের কিছু বিষয়ে আলোকপাত করি তাহলে আমাদের বুজতে সুবিধা হবে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত নেতিবাচক না কি পজেটিভ।

    ১. অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থাঃ করোনা আসার আগে জাতীয় ভাবে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে। শিক্ষার যে দুটি পাট শিক্ষক ও শিক্ষার্থী দুজনকেই দক্ষ হতে হয় ডিভাইস চালনায়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ict বিষয় hsc তে থাকলেও খুব কম সময় ছাত্রদের কম্পিউটার ল্যাবে যাওয়া হয়। এছাড়া যদি শিক্ষক দের আগে থেকে ট্রেনিং ও ছাত্র দের এ বিষয়ে ঙ্গান দেওয়া হইতো তাহলে জাতীয় পর্যায়ে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা তরান্বিত করা যেত।

    ২. ইন্টারনেটের অসম বন্টনঃ বাংলাদেশের সব গ্রাম থেকে hsc শিক্ষার্থী আছে। কিন্ত সব গ্রামে দ্রুত গতির ইন্টারনেট নেই এবং অনেক জায়গায় ২g নেটওয়ার্ক ও নাই। অনলাইন মাধ্যমে যদি পরীক্ষা নেওয়া হত তাহলে এসব এলাকার শিক্ষার্থী রা প্রচুর অসুবিধায় পড়ত।

    ৩. ডিভাইস সমস্যাঃ অনেক hsc পরীক্ষার্থীর স্মার্টফোন নেই। এপ্রিল মাস থেকে অনেক পরিবার অর্থাভাবে দিন কাটাচ্ছে। এই সময় তাদের মোবাইল কেনা অনেকটা অসম্ভব। ত ছাড়া অনলাইনে ক্লাস করা যায় এমন স্মার্টফোন ক্রয় করতে অন্তত ৬০০০ টাকা লাগবে। যা অনেকের কাছে দুঃসাধ্য।

    ৪. স্বাস্থ্য বিধি মেনে পরীক্ষাঃ সাধারণত পাবলিক পরীক্ষার হলগুলোতে বেঞ্চ প্রতি ২ জন বা ৩ জন করে বসে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিধি মেনে পরীক্ষা নিতে হলে একজন শিক্ষার্থীর চারদিকে ৩ ফিট দুরত্ব বজায় রাখতে হবে যা প্রায় অসম্ভব।

    ৫. ভবিষ্যত প্রভাবঃ মার্চের শেষে এসে লকডাউন শুরু এবং এপ্রিলের শুরুর দিকে hsc পরীক্ষা ছিল। যার অর্থ দাড়ায় ২০২০ এর পরিক্ষার্থীরা তাদের পড়া শেষ করে পরীক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। শুধু তাদের মূল্যায়ন হল না৷ অনেকেই বলছেন, আমরা অনেক ভলো পড়াশোনা করেছি কিন্তু আমাদের মূল্যায়ন হল না এবং অনেকেই প্রিপারেশন না নিয়ে ভাল রেজাল্ট করলো। তাদের ক্ষেত্রে বলা যায়, hsc রেজাল্ট শুধুমাত্র ভর্তি পরীক্ষার উপর প্রভাব ফেলে। এছাড়া ভবিষ্যতে এর কোন দরকার পড়ে না। এখন যদি ভর্তি পরীক্ষায় রেজাল্ট উঠে নেয় সেক্ষেত্রে তারাই চান্স পাবে যারা ভাল পড়াশোনা করেছে।

    ভ্যাকসিন আসার পর পরীক্ষা নিতে হলে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে ১ টি মূল্যবান বছর নষ্ট হয়ে যাবে। যেন তাদের এই ক্ষতি না হয় এইজন্য সরকার এই অভূতপূর্ব অটোপাশের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত কে আমি স্বাগত জানাই।

    নিচে একটি ডেটা টেবিল দেওয়া হলঃ

    year Exam type Total students Gpa 5
    2016 Ssc 1500000 109761
    2018 hsc 1300000 29262
    2016 jsc 2,183,975 247,588
    2018 Ssc 2031000 110629
    2020 hsc 1564220 179108.5 (estimate)

     

    এখান থেকে দেখতে পাচ্ছি ২০১৬ সালে ssc পরীক্ষা দিয়েছিলো ১৫০০০০০ জন এবং  gpa-5  পেয়েছিলো ১০৯৭৬১ জন।এই ২০১৬ এর ব্যাচ ২০১৮ তে hsc পরীক্ষা দিয়েছিল এবং সেখানে ১৩০০০০০  জনের মধ্যে gpa-5 পেয়েছিল ২৯২৬২ জন।এই দুইটি তথ্য থেকে আমরা এটা বুঝতে পারছি পরীক্ষার্থী এবং gpa- 5 উভয়ের সংখ্যা কমেছে hsc তে এসে।আর অটোপ্রমোশন এর নিয়ম অনুযায়ী শেষ দুটি পাবলিক পরীক্ষার গড় রেজাল্ট হবে ২০২০ hsc এর রেজাল্ট। তাহলে ২০১৬  সালে যারা jsc এবং ২০১৮ সালের ssc পরীক্ষার্থীদের রেজাল্ট এর গড় হবে ২০২০  hsc পরীক্ষার্থীদের রেজাল্ট।২০১৬ তে মোট jsc পরিক্ষার্থী ছিলো ২১৮৩৯৭৫ জন এবং gpa-5 পেয়েছিল ২৪৭৫৮৮ জন।২০১৮ তে সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে হয় ২০৩১০০০  জন এবং gpa-5 পায় ১১০৬২৯ জন।২০২০ এ এসে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাড়ায় ১৫৬৪২২০ জন এবং সম্ভাব্য gpa-5 দাড়ায় ১৭৯১০৮.৫ জন।যা বিগত বছর গুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ। hscপরীক্ষার সবচেয়ে বেশী প্রভাব ভর্তি পরীক্ষায়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিট ছিল ৫০০০০ টি এবং সিট প্রতি প্রতিযোগিতা করেছিল ২৬ জন। ২০২০ এ এসে মোট সিট হয় ৬০০০০ টি এবং প্রতি সিটে সম্ভাব্য প্রতিযোগিতা করবে ২৬.০৭ জন৷ এর অর্থ দাড়ায়, যারা প্রকৃত পড়াশোনা  করেছে তারাই চান্স পাবে এসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলো তে। তাই বলা যায় অটোপাশ খুব একটা প্রভাব ফেলবে না ভর্তি পরীক্ষায়।hscতে যেসব বিষয়ে পাঠদান করানো হয় তার বেশীরভাগ উচ্চশিক্ষায় খুব কমই কাজে লাগে। এই জন্য জীবন রক্ষার তাগিদে সরকারের এই সিদ্ধান্ত খুবই ইতিবাচক।এদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে পরীক্ষা হয়েছিল, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সব শিক্ষার্থীদের অটো প্রমোশন এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসময় অনেকেই এর বিরোধিতা করেন।

    তারাই এর বিরোধিতা করেছিলো যারা মুক্তিযুদ্ধে না যেয়ে পড়াশোনা করেছিলো। হানিফ আরো বলেন, এই সংকট ময় মুহূর্তে সরকারের এই সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানানো উচিত।