প্রতিবছরের মতো এবারও অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চাওয়া দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের কলেজে পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণে আর্থিক হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে সরকার। এই সহায়তা পেতে আবেদন শুরু হয়েছে গত ৫ মার্চ থেকে, আর শেষ হবে আগামী ১০ এপ্রিল ২০২৫, রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে। তবে এই সুযোগ নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ বলছেন, এসব কিছুই হবে না, শুধু শুধু ভয় দেখানো হচ্ছে। তাদের জন্যই আজকের এই লেখা। চলুন, বিস্তারিত জেনে নিই।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ২০২৫ আবেদন
বিষয় | বিস্তারিত |
---|---|
প্রকল্পের নাম | প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট |
লক্ষ্য | অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিশ্চিত করা |
আবেদন শুরু | ৫ মার্চ ২০২৫ |
আবেদনের শেষ তারিখ | ১০ এপ্রিল ২০২৫, রাত ১১:৫৯ মিনিট |
সহায়তার পরিমাণ | মাধ্যমিকে ৫,০০০ টাকা, উচ্চমাধ্যমিকে ৮,০০০ টাকা, স্নাতকে ১০,০০০ টাকা |
আবেদনের লিংক | Link |
বিজ্ঞপ্তির লিংক | Link |
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট কে পাবেন
সবাই তো আর এই সুবিধা পাবেন না। সরকার কিছু শর্ত দিয়েছে। যারা এই শর্ত পূরণ করতে পারবেন, তারাই আবেদন করতে পারবেন। শর্তগুলো হলো:
- অর্থনৈতিক অবস্থা: মা-বাবা বা অভিভাবকের বছরে আয় ২ লাখ টাকার কম হতে হবে। অথবা, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে চাকরি করা কর্মচারীর সন্তান হতে হবে।
- মেধার প্রমাণ: শিক্ষার্থীকে মেধাবী হতে হবে। এটা প্রমাণ করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের সুপারিশ লাগবে।
- কাগজপত্র: আবেদনের সময় ছবি, জন্ম নিবন্ধন সনদ, অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র, আর প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সুপারিশ জমা দিতে হবে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সন্তান হলে অভিভাবকের কর্মস্থলের প্রধানের প্রত্যয়ন লাগবে।
এই শর্তগুলো পড়ে অনেকে ভাবতে পারেন, “এত ঝামেলা কেন?” কিন্তু ভেবে দেখুন, এটা সরকারের টাকা। সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য এই নিয়মগুলো জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে কত টাকা পাবেন
এই প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে তাদের শিক্ষার স্তর অনুযায়ী। যেমন:
- মাধ্যমিক স্তরে: ৫,০০০ টাকা।
- উচ্চমাধ্যমিক স্তরে: ৮,০০০ টাকা।
- স্নাতক বা সমমান স্তরে: ১০,০০০ টাকা।
এই টাকা শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, বই কেনা বা অন্যান্য খরচে কাজে লাগবে। অনেকের কাছে এই পরিমাণ কম মনে হতে পারে। কিন্তু যাদের বছরে ২ লাখ টাকাও আয় হয় না, তাদের কাছে এটা অনেক বড় সাহায্য।
যেভাবে আবেদন করবেন
আবেদন করা খুবই সহজ। সবকিছু অনলাইনে হবে। যা করতে হবে:
- লিংকে যান: Link এই লিংকে ক্লিক করুন।
- ফরম পূরণ করুন: নির্ধারিত ফরমে আপনার তথ্য দিন।
- কাগজপত্র আপলোড করুন: ছবি, জন্ম সনদ, অভিভাবকের পরিচয়পত্র ইত্যাদি আপলোড করতে হবে।
- সময়মতো জমা দিন: ১০ এপ্রিল ২০২৫, রাত ১১:৫৯ মিনিটের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে।
আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি দেখতে পারেন এখানে: Link।
আমাদের দেশে অনেক মেধাবী ছেলেমেয়ে আছে, যারা টাকার অভাবে পড়তে পারে না। কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় অনেক পরিবারের পক্ষে ফি দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে অনেকের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট এই সমস্যা দূর করতে চায়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার চায়, কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন টাকার জন্য পড়াশোনা ছাড়তে না হয়।
এত সুন্দর একটা প্রকল্প নিয়েও অনেকে নাক সিঁটকাচ্ছেন। কেউ বলছেন, “এসব কিছুই হবে না।” কেউ বলছেন, “শুধু শুধু ভয় দেখানো হচ্ছে।” এমনকি কিছু লোক বলছেন, “পুলিশও এটা নিয়ে একই কথা বলছে।” তাদের জন্য বলি, আগে পড়ে দেখুন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি আর খবরের কাগজে এই খবর ছাপা হয়েছে। এটা কোনো গুজব নয়।
আমি নিজেও প্রথমে ভেবেছিলাম, এটা কি সত্যি কাজ করবে? কিন্তু যখন দেখলাম, এই প্রকল্পে আগের বছরগুলোতে অনেক শিক্ষার্থী সুবিধা পেয়েছে, তখন মনে হলো, এটা আসলেই কার্যকর। তবে হ্যাঁ, সবাই যে এটা পাবে, তা নয়। যারা যোগ্য, তারাই পাবে। আর সেজন্যই এত নিয়মকানুন।
এই প্রকল্প শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, পুরো সমাজের জন্যও ভালো। যখন একজন দরিদ্র পরিবারের ছেলে বা মেয়ে পড়াশোনা করে বড় হবে, তখন তার পরিবারের অবস্থাও বদলাবে। এটা একটা চেইন রিঅ্যাকশনের মতো। একজন শিক্ষিত মানুষ শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের জন্যও কাজে আসে। তাই এই আর্থিক সহায়তা শুধু টাকার সাহায্য নয়, এটা একটা ভবিষ্যৎ গড়ার পথ।
সারাংশ
আপনার বা আপনার পরিচিত কারও যদি এই সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে দেরি করবেন না। ১০ এপ্রিল ২০২৫ এর আগে আবেদন করে ফেলুন। এটা কোনো ভুয়া প্রতিশ্রুতি নয়। সরকারের অফিসিয়াল প্রকল্প। যারা ভাবছেন, “এসব কিছুই হবে না,” তাদের বলি, একবার চেষ্টা করে দেখুন। হয়তো আপনার সন্দেহ ভুল প্রমাণ হবে। আর যদি কেউ এটা নিয়ে চিৎকার করতে চান, তাহলে আগে পড়ে নিন। তারপর যা মনে হয়, করুন।
শিক্ষা আমাদের অধিকার। আর এই প্রকল্প সেই অধিকার পেতে একটা বড় সুযোগ। তাই সময় থাকতে হাত বাড়ান। কে জানে, এই সাহায্যই হয়তো আপনার জীবন বদলে দেবে! এই তথ্যগুলো সবার আগে আপডেট পেতে শিক্ষা নিউজ ভিজিট করুন।